মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি <>

পিরোজপরের মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আখলাকুর রহমানকে তার দপ্তরে পিটিয়ে জখম ও অফিস ভাংচুরের ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়ছে। তিনসদস্যে গঠিত তদন্ত দল তদন্ত শুরু গতকাল বৃহস্পতিার সমাজসেবা অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপ-পরিচালক হরিশ চন্দ্র বিশ্বাস ও সহকারী পরিচালক এমএম ফজলুল করিম ঘটনাস্থল মঠবাড়িয়ায় উপস্থিত হয়ে প্রতক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
তদন্ত কমিটি ঘটনার সময় উপস্থিত উপজেলা পরিষদেও সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। তদন্ত কমিটির কাছে উপজেলা অওয়া’লীগের সাধরেণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বার হামলায় অভিযুক্ত এতিমখানার সভাপতি আবদুল গফ্ফারকে ভ’য়া এতিমের বরাদ্দ বিল না দেওয়ায় সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তার দপ্তওে পিটিয়ে আহত কওে অফিস ভাংচুরের লিখিত অভিযোগ দেন।

এসময় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন তদন্তকালে সাংবাদিকদের জানান, দায়িত্ব পালনের সময় একজন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা ও অফিস ভাংচুর দুঃখজনক। তদন্তে দোষি প্রমানিত হলে এতিমখানার সভাপতি আবদুল গফ্ফারসহ অন্যান্য জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়হারজী গ্রামের কাঞ্চন আলী হাওলাদারের ছেলে আবদুল গফ্ফার খোকন ওই গ্রামে “হাজী গুলশান আরা শিশু সদন” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ৪১ জন এতিম থাকলেও আরও ১০১ জন ভূয়া এতিমের নামে প্রতি বছর ১২লাখ টাকা সরকারী বরাদ্দ তুলে আত্মসাৎ করে আসছিল। সম্প্রতি ওই এতিম খানার বিরুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহামুদ ভূয়া এতিম দেখিয়ে সরকারী লক্ষ লক্ষ টাকার আত্মসাৎ এর অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ইউএনও এর পক্ষে সহকারী কমিশনার ভূমি মো. সোহাগ হাওলাদার সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন ও তদন্ত করে ওই এতিম খানায় মাত্র ৪১ এতিম উপস্থিত পান। এ বিষয়ে ভূয়া এতিমের নামে বর্ধিত বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। গত ৬ মাসের সরকারী অনুদানের ৬লাখ টাকা বিল চেয়ে গত রোববার বিকেলে ওই এতিম খানার সভাপতি আব্দুল গফ্ফার সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে চাপ প্রয়োগ করে। সমাজ সেবা কর্মকর্তা ভূয়া এতিমের বিল দিতে অস্বীকার করে। এসময় সভাপতি তার ৫/৬ জন ভাড়া করা সন্ত্রাসী মিলে উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরে প্রবেশ এলোপাতারি পিটিয়ে সমাজ সেবা অফিসারকে গুরতর আহত করে । সেময় হামলাকারীরা অফিস কক্ষের কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি ও হাতুরী উদ্ধার করে। হামলার সময় গোটা উপজেলা পরিষদে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সু-কৌশলে গফ্ফার ও তার সহযোগী মাওলানা মোস্তফা মাহামুদকে একটি কক্ষে আটকে রাখলেও অন্যরা সন্ত্রাসীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ হামলার ঘটনায় সারা দেশে বিচারের দাবিতে সমাজসেবা দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করে। স্থানীয়ভাবে সামাজিক সাউট ফেসবুকে নিন্দার ঝড় ওঠে।

মঠবাড়িয়া থানার ইন্সেপেক্টর (তদন্ত) মাজহারুল আমিন (বিপিএম) বলেন, এ ঘটনায় আহত সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আখলাকুর রহমান বাদি হয়ে সংশ্লিষ্ট এতিখানার সভাপতি,শিক্ষকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দিন পুলিশ দুই হামলাকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত দুইজন জেল হাজতে রয়েছে। বাকী আসামীরা পলাতক তাদেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন