মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :<>

মঠবাড়িয়ায় এক প্লাষ্টিক গুড়া করা মিল মালিক শৈলেন কুলুর বিরুদ্ধে একাধিক নারী শ্রমিকদের শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠছে। এ ব্যপারে ওই শ্রমিক স্বামী পরিত্যাক্তা নারী (২৭) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
পশ্চিম রাজপাড়া গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারে সন্তান ওই নারী জানান, গত তিন মাস আগে বড়মাছুয়ার বাজারে ব্রীজ সংলগ্ন প্লাষ্টিক গুড়া করা মিলে প্রতিদিন (সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) দেড়’শত টাকা মজুরীতে কাজ নেয়। ৭/৮মাস কাজ করার মিল মালিক শৈলেন বিভিন্ন সময় তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার সাথে র্দুব্যবহার করতে থাকেন। এক পর্যায় মিলে কাজ করার ফাঁকে ওই নারীকে লম্পট শৈলেন ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ ঘটনা বাহিরের লোক জনের কাছে বলায় তার এক মাসের বেতন না দিয়ে শৈলেন চাকরী চ্যুত করে। তিনি আরও জানান যে, তার সামনেই অনেক নারী শ্রমিককে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানী করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় অসহায় নারীরা মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

ওই মিলের অপর তালাক প্রাপ্ত নারী শ্রমিক (২৫) কালির হাটের বাসিন্দা এক সন্তানের জননী জানান, স্থানীয় বড়মাছুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া পুত্রের খরচ চালানোর জন্য তিনি ওই মিলে একই বেতনে শ্রমিকের কাজ নেয়। সম্প্রতি একা পেয়ে মিল মালিক শৈলেন জোর করে অনৈতি কাজ করার জন্য তার বাম হাত ধরে টান দেয়। এসময় চিৎকার দিয়ে মিল থেকে বেড় হওয়ার সময় ওই নারী গুরত্বরও আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এ কারণে তারও এক মাসের বেতন দেননি বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, লম্পট শৈলেনের বিরুদ্ধে একাধিক নারী গঠিত কেলেংকারী অভিযোগ রয়েছে।
ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মৃধা জানান, শৈলেন একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে চাঁদপুরের হাইমচড়ের বাসিন্দা এবং তার প্রকৃত নাম পরিতোষ মজুমদার। সে রায়পুরা লক্ষীপুরে প্লাস্টিকের মিল করে স্থানীয় সাজু মোল্লাসহ কতিপয় লোকদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত তিন বছর আগে পালিয়ে মঠবাড়িয়ায় এসে শৈলেন কুলু নাম দিয়ে মিল ব্যবসা চালু করে।
এ ব্যপারে শৈলেন কুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোন কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে রাখে।

বড়মাছুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী শ্রমিক কর্তৃক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কঠিন বিচার হবে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন