পিরোজপুর প্রতিনিধি <>
পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের তেজদাসকাঠি এলাকার এক কিশোরীকে দুই ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন মিলে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে কিশোরী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পরায় ঘটনাটি জানা জানি হয়। এঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ইউনিয়নের দুই ইউপি সদস্য মাসুদ ও নান্টু সহ আরও তিনজন কে আসামী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরীর মা।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, কিশোরীকে তার মায়ের কাছে রেখে বাবা পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে আর ফিরে আসেনি। সেই থেকে মা কখনও রাস্তার কাজ আবার কখনও ভিক্ষে করে সংসারে ভরন পোষন করতেন। অতি দার্দ্রিতার কারনে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত যাওয়ার পর আর পড়াশুনাও করতে পারেনি এ কিশোরী। এদিকে নির্জন বাড়ি হওয়ায় ১৫ বছরের কিশোরীর ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে দুই ইউপি সদস্যের। এ কারনেই দু’ইউপি সদস্য সহ তাদের লোকজনের আনা গোনা বাড়তে থাকে ওই বাড়িতে। সুযোগ পেয়েই জোর পূর্বক ধর্ষন করে মেয়েটিকে। ইউপি সদস্য মাছুদ ও ইউপি সদস্য নান্টুসহ সাইফুল, সাব্বির, মারুফুল মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষন করে। এসময় তারা কিশোরীর হাত পা মুখ বেধে মেয়েটির উপর নির্যাতন চালাত। এরই মধ্যে মেয়েটি দুই মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পরে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিরা মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় নিয়ে আসে। এর পর থেকে মেয়েটি পিরোজপুর সদর থানার নিরাপত্তা হেফাজতে আছে। মেয়েটির মা বলেন, আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষে করে খাই। ভিক্ষার জন্য যখন বাইরে যাই বাধ্য হয়ে মেয়ে একা ঘরে থাকে। তখন যে এসব ঘটতো মেয়ে আগে বলে নাই। যখন জানলাম তখন সর্বনাশ হয়ে গেছে। এই এলাকার মেম্বররা বাসায় আসা যাওয়া করতো এ কথা ঘটনা যানার পর মেয়ে আমাকে বলেছে। এ ব্যপারে ওই এলাকার অবসর প্্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রিপন তালুকদার বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক। যারা প্রকৃত অভিযুক্ত তাদের আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।

এ ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত সাইফুলের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ সব কিছুর নাটের গুরু মাসুদ মেম্বর। সে ওই খানে নিজেও যাইত আবার অনেককে পথও দেখাইছে। এই মেম্বর এর আগেরও একজনকে ধর্ষন করার কারনে তার সংসারটা ভেঙে যায়।

টোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি চাই যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তি হোক। তবে নিরাপরাধ কেউ যেনো সাজা না পায়।

টোনা ইউনিয়ন পরিষদের অভিযুক্ত দুই ইউপি সদস্য মাসুদ ও নান্টু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ন অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট নই। মেয়েটিকে দিয়ে একটি মহল আমাদের নাম বলাচ্ছে।
পিরোজপুর সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জিয়াউল হক বলেন, মেয়েটি দুই মেম্বর সহ পাঁচ জনের কথা বলেছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন