কাউখালী প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের কাউখালীতে ১৩ বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে কে শ্বাসরোধে হত্যার পর হত্যাকারী শিশুটির লাশ খালে ফেলে দেয়। ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় বখাটে পারভেজ মহাজন(৪০) শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত স্কুল ছাত্রীর মা  থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সোমবার দিনগত রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার দাসেরকাঠি গ্রামের খাল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত হত্যাকারী পারভেজ মহাজনের বড় ভাই সোহেল মহাজনকে গ্রেফতার করে।

নিহত স্কুল ছাত্রী মুক্তা দাসেরকাঠি গ্রামের হিরু মহাজনের মেয়ে। শিশুটি দাশেরকাঠী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কথা ছিল।
অভিযুক্ত হত্যাকারী পারভেজ একই গ্রামের ফোরকান মহাজনের বখাটে ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাশেরকাঠী গ্রামের ওই স্কুল ছাত্রী তার বড় বোনকে নিয়ে সোমবার দুপুরের পর বৈশাখী ঝড় বৃষ্টি শেষে প্রতিবেশী বাড়ির বাগানে আম কুড়াতে যায়। বড় বোন বৃষ্টিতে ভিজে গেলে আগে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু শিশুটি আম বাগানে ঝড়ে পড়া আম কুড়াতে ব্যস্ত থাকে। আম কুড়ানো শেষে হলে মেয়েটি বাড়ি ফিরছিল। পথে দাশেরকাঠী খালের সেতুর কাছে পৌঁঁছামাত্র একই গ্রামের ফোরকান মহাজনের ছেলে বখাটে পারভেজ মহাজন শিশুটিকে ঝাপটে ধরে জোর পূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালায় । ধর্ষনে ব্যর্থ হয়ে পাষন্ড পারভেজ গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে । পরে শিশুটির লাশ দাশেরকাঠী খালে ফেলে পালিয়ে যায়।

এদিকে মেয়ে  সন্ধ্যা অবধি বাড়িতে না ফেরায় গ্রামে খোঁজ নেয় তার পরিবার। না পেয়ে রাতে শিশুটির মা বাবা থানায় এসে মেয়ে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই পুলিশ দাশেরকাঠী খাল থেকে  শিশুটির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে।
এ হত্যান্ডের ঘটনায় নিহত শিশুটির মা  বাদী হয়ে বখাটে পারভেজ মহাজন ও তার বড় ভাই সোহেল মহাজনকে আসামী কাউখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান জানান, নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার কওে ময়নাতদন্তের জন্য আজ মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত স্কুল ছাত্রীর মা বাদি হয়ে দুই সহোদরকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত পারভেজ ঘটনার পর থেকে পলাতক। তবে অপর আসামী তার ভাই সোহেল মহাজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন