মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ▶️

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৭১ এর সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ নামে একটি সংগঠন সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি চক্র মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা সনদ,কার্ড ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ দেওয়ার নামে একটি স্বাস্থ্য সেবার কার্ড প্রদান করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানিয়েছেন সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ বলে কিছু নেই। এসব সনদ মূলত মানুষকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল।
মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকটা ইউনিয়নের পাঁচশতকুড়া গ্রামের ভূক্তভোগি বৃদ্ধ কৃষক মো. আব্দুস সালাম আকন মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কাছে এ মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পশুরিয়া গ্রামের মো. বাদশা খানের ছেলে ইসমাইল হোসেন খাঁন এলাকায় সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য সনদ ও কার্ড প্রদান করছে। এ সনদ প্রদানের নামে মানুষের কাছ থেকে সে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সনদ প্রাপ্তির পর কার্ডধারী সহযোগি মুক্তিযোদ্ধারা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধার যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পাবেন এমন প্রলোভন দিখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ভূক্তভোগি আবদুস সালাম মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার আশায় স্থানীয় পশুরিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন খানের সাথে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এরপর প্রথমে বৃদ্ধ আব্দুস সালাম ৩১ হাজার টাকা প্রদান করেন। আরও ১৯ হাজার টাকা পরিশোধের পর তাকে সনদ ও কার্ড প্রদানের কথা বলা হয়। পরে ভূক্তভোগি আবদুস সালাম খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ বলে কিছু নেই। এসব সনদ প্রতারণার একটি কৌশল। পরে তিনি তার অর্থ ফেরত চাইতে গেলে টালবাহানা করে ইসমাইল খাঁন।
তিনি আরও জানান, শুধু তিনি নন এ প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পশুরিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন খাঁন এলাকায় সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য পশুরিয়া ও পাঁশতকুড়া গ্রামের অন্তত ২০/২৫জন মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও রাষ্ট্রীয় নানা সুবিধা পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে মানুষ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ৭১ সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ,কার্ড ও একটি হেলথ কার্ড গ্রহণ করেছ্।ে

উপজেলার পশুরিয়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক আব্দুস সত্তার ৬০ হাজার টাকায় এসব সনদ নেন। মুক্তিযোদ্ধার ভাতাসহ সরকারী যাবতীয় সুবিধা পাবেন এমন আশ^াসে তিনি সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করেন। প্রতারিত আব্দুস সত্তারকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে দেওয়া সহযোগি মুক্তিযেদ্ধার সনদ, পরিচয়পত্র ও স্বাস্থ্য সেবার কার্ড পর্যবেক্ষণ করে দেখো গেছে, ঘরে ঘরে জাগ্রত করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এ বক্তব্য নিয়ে ৭১ এর সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ নামে একটি ঢাকা কেন্দ্রীক সংগঠন এ সনদগুলো প্রদান করছে। সরদার গোলাম মোস্তফা নামে একজন এ সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে উøেøল্লখ রয়েছে।

বৃদ্ধ আব্দুস সত্তারের ৫২৮ নম্বরের সনদে আরও উল্লেখ রয়েছে, সনদপত্র নেওয়ার সময় শাপলা ফুল জলছাপ দেখে নিবেন। সনদপত্র নকল ও জাল হয়েছে। সনদ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে নগর জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি স্বাস্থ্য সেবার কার্ড হয়েছে যার কোন ঠিকানা উল্লেখ নেই। এছাড়া সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও পরিচয় পত্রের উপরে বামপাশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ওই সনদ ও কার্ড গ্রহণের পর গত এক মাস আগে বৃদ্ধ কৃষক আব্দুস সত্তার অসুখে ভুগে মারা যান।

উপজেলার পশুরিয়া গ্রামের বিআরডিবির ইন্সপেক্টর মো. ইয়াকুব মাঝি জানান, তিনি সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিতে ৪৯ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। স্থানীয় ইসমাইল হোসেন খাঁনকে সমুদয় অর্থ তিনি পরিশোধ করেন। পরে তিনি এ সনদ ভূয়া জানতে পারেন।
তিনি বলেন, আগে বুঝতে পারিনি। সনদ হলে ভাতা পাব, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাব এ আশায় টাকা দিয়েছি। এখন কিভাবে ওই টাকা ফেরত পাব তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পশুরিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন খাঁনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এসব আপনাকে কে বলেছে। তাকে বলা হয় একজন ভূক্তভোগি মুক্তিযোদ্ধা সংসদে অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া কয়েকজনকে দেওয়া সনদ ও কার্ড আমার হতে রয়েছে। তখন তিনি বলেন, ভাই এসব আমি দেইনি যে দিয়েছে তার সাথে কথা বলিয়ে দেব, আমি একটু ব্যস্ত আছি একথা বলে তিনি মোবাইলের কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডে সহকারী কমান্ডার শাহাদাৎ হোসেন রাজা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা বলে রাষ্ট্রীয় কোন সনদ নেই। এটি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণার নতুন কৌশল । আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা জানতে পেরেছি উপজেলার পশুরিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন খান নামে এক ব্যক্তি এলাকায় এসব প্রতারণার সমন্বয়কারী হিসেবে সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে অর্থ উত্তোলন করছেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মো. বাচ্চু মিয়া আকন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। সহযোগি মুক্তিযোদ্ধার সনদ বলে কিছু নেই। এটা ¯্রফে প্রতারণার কৌশল। ভূক্তভোগিদের মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আসতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন