মো. খালিদ আবু, পিরোজপুর >>>
পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘দপ্তরি কাম প্রহরী’ নিয়োগে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষুব্ধ ও বঞ্চিতদের অভিযোগ, ওই টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাসহ সরকারি দলের কতিপয় নেতাদের মধ্যে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, উপজেলার ১২টি বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে গত ২২ মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে লাহুরি, লক্ষ¥ীদিয়া, নলবুনিয়া, উমেদপুর, কালাইয়া, চরানিপত্তাশী, দক্ষিণ কালাইয়া, মধ্য কালাইয়া, মধ্য বালিপাড়া, মধ্য চরবলেশ্বর, বদরপুর ও কাসেম সরদার মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ৬ জুন ছিল আবেদনের শেষ তারিখ। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা সর্বসাকুল্যে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে এই নিয়োগ কার্যকর হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়। আর প্রার্থীদের যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণী পাস। প্রার্থীদের আবেদনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন শেষে গত ১৭ জুন ৭০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা এখন চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে।
এদিকে ক্ষুব্ধ ও বঞ্চিতদের অভিযোগ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে স্থানীয় কতিপয় নেতাদের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। এতে আওয়ামী লীগ ও জেপি (মঞ্জু)র মধ্যে দর কষাকষি হয়। এক পর্যায়ে উভয় দলের তিন নেতার মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ছয়টি করে মোট ১২টি বিদ্যালয় নেতারা ভাগ করে নেন। নিয়োগ বঞ্চিতদের অভিযোগ, বৈঠকে প্রতি পদের প্রার্থীদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে ঘুষ ধার্য করা হয়। আর নেতাদের হাত ঘুরে ঘুষের ভাগ চলে গেছে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ইউএনওর হাতে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একই বিদ্যালয়ে নিয়োগের কথা বলে তিন প্রার্থীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন ওই তিন নেতা। আবার ইউএনওর সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেছেন দু’তিনজন নিয়োগ প্রার্থী। এ কারণে যে বিদ্যালয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বেশী, সেখানে টাকার অঙ্ক উঠেছে বেশি। তবে তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে পত্তাশীর প্রার্থীদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেয়া হয়েছে বলে জানায় প্রার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাকরি প্রার্থীর এক বড় ভাই বলেন, ‘ভাইয়ের নিয়োগের ব্যাপারে প্রথমে আমার কাছে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়, পরে আরও এক লাখ টাকা চায়। পাঁচ লাখ টাকা দিলে নাকি চাকরি নিশ্চিত।’ তিনি আরও বলেন, জমিজমা বিক্রি করে অনেকে টাকা দিলেও আমরা টাকা দিতে পারিনি। আমার ভাই শিক্ষিত, সৎ ও চাকরি পাওয়ার যোগ্য। ভাইয়ের চাকরি না হলে ভাবছি হাইকোর্টে রিট করব। এ বিষয় উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রিপন সিকদার বলেন, এ নিয়োগ বাণিজ্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেপির নেতার মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এটি প্রশাসন নিয়োগ দেবে, এখানে দলীয় কোনো হাত নেই। যারা এ ধরনের অভিযোগ করছে, তারা আমার ওপর ঈর্ষান্বিত। এ নিয়োগের ব্যাপারে আমি একদম নাক গলাইনি।

জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি আসাদুল কবির স্বপন বলেন, আমাদের নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য হয়নি। আমি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি, আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন