মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরের জেলেদের পূনর্বাসনের চাল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বেকার জেলেদের সহায়তা হিসেবে বিশেষ মৎস্য খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় বিতরণকৃত চালের অর্ধেকটাই কেটে রাখা হচ্ছে বলে ভূক্তভোগিজেলেরা অভিযোগ করেছেন। তালিকাভূক্ত জেলেদেরে তিন মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১২০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও জনপ্রতি জেলেকে মাত্র ৫০ কেজি চাল বিতরণ করে বাকী চাল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা মিলে আত্মসাত করে আসছেন।
উপজেলার বলেশ্বর নদ তীরের বড়মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া জেলে পল্লীর জেলে মো. রফিকুল (২৮),মোস্তফা ফকির(৪৫) অভিযোগ করেন, গত তিন মাসে জনপ্রতি ৪০ (প্রতি মাসে) কেজি করে ১২০ কেজি চাল কথা থাকলেও মাত্র ৫০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। বাকী চাল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা মিলে জেলেদের কাছ থেকে কেটে রাখছে। এতে দরিদ্র জেলেরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানাগেছে, গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে দুস্থ জেলেদের বলেশ্বর নদের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরকার জেলেদের পুনর্বসনে ওই তিন মাসে বেকার জেলে প্রতি মাসে ৯২ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৩০০ জেলেদের জন্য গত তিন মাসে (মার্চ, এপ্রিল, মে) ২৭৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। দরিদ্র বেকার জেলেদের এ চাল বিতরণে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যরা মিলে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ওজনে কম দেয়া, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক অনিয়ম করে চাল বিতরণ করে আসছে।

আজ রবিবার সকালে উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে চালবঞ্চিত জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় স্থানীয় ঘোপখালী গ্রামের কার্ডধারী জেলে কুদ্দুস সর্দার, মফিজ উদ্দিন, এমাদুল হক, রুহুল আমীন, নিজামিয়া গ্রামের আবদুল মজিদ অভিযোগ করে বলেন, বহু কষ্ট করে আমরা জেলে কার্ড পেয়েছি। কিন্তু কার্ড থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রকৃত জেলেরা চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
এছাড়া ঘোপখালী গ্রামের জেলে ফুল মিয়া(৫০) (সিরিয়াল নম্বর ১১৮), হাবিবুর রহমান(৫৫) (সিরিয়াল -১১১) ও দুলাল মৃধা(৩০), জানান, গত তিন মাসে জন প্রতি ১২০ কেজি চালের পরিবর্তে তারা চাল পেয়েছেন মাত্র ৫০ কেজি করে।

এ বিষয়ে বেতমোর ইউপি চেয়রম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইউনিয়নে ৮৯০ জন জেলে কার্ডধারী জেলের বিপরীতে চাল বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৩৫০ জনের। বাকী ৫৪০ জন কার্ডধারী জেলের চাল আমি কই পাব।
তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, স্থানীয় মৎস অফিসের সাবেক মাঠ কর্মী মনিরুজ্জামান অর্থের বিনিময়ে যারা জেলে নয় তাদেরকে জেলে কার্ড দেয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা এসএম আজাহার বলেন, কয়েকটি ইউনিয়নে চাল বিতরণের মৌখিক অভিযোগ আমিও পেয়েছি। ইউিিপ চেয়ারম্যানের নামে বরাদ্দকৃত চাল কবে কখন বিতরণ করা হয় তা আমি, ট্যাগ অফিসার এমনকি ইউএনও মহোদয়ও জানেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফরিদ উদ্দিন জানান, জেলেদের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন