মনোতোষ হাওলাদার, বামনা >>
বরগুনার বামনা উপজেলার গুদিঘাটা গ্রামে অন্যের মালিকানাধিন বসত ঘর পেট্রোল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ৪ নং ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও এক নারীকে অপহরণের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটিয়েছে একই গ্রামের মো. খলিলুর রহমান(৩৫) নামে এক ব্যাক্তি। ঘরের প্রকৃত মালিক মোঃ মোস্তফা তার বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ এনে গত বুধবার বরগুনা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে খলিলুর রহমানকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আর একটি মামলা দায়ের করে।
অভিযোগ ও দুটি মামলার সূত্রে জানাগেছে, বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রামে প্রায় দুই বছর পূর্বে উত্তর গুদিঘাটা গ্রামের মৃত্যুফকির উদ্দিন আকনের ছেলে মোস্তফার বসত ঘরে ভাড়ায় বসবাস করতো প্রতিবেশী খলিলুর রহমান। অনেক দিন ধরে খলিলের সাথে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তার আপনজনদের জমি জমা নিয়ে বিরোধ ছিলো। গত ২৩ এপ্রিল রাতে পূর্বে ভাড়া থাকা বসত ঘরটি পেট্রোল দিয়ে অগ্নি সংযোগ করে সম্পূর্ন ভষ্মিভূত করে খলিরুর রহমান ও তার সহযোগীরা। আর এই ঘটনাটির ঘটিয়ে শত্রু ঘায়েল করার জন্য ঘরে অগ্নি সংযোগ ও তার স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ এনে বরগুনা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সহ ১০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। পিটিশন মামলা নং-৪৪/২০১৭ ধারা৪৪৭/৩২৩/৩৬৪/৪৩৫/৪৩৬/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪ দঃবিঃ।
এদিকে ওই বসত ঘরের মালিক মোঃ মোস্তফা আকন পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম থাকায় ঘরে অগ্নি সংযোগের ঘটনাটি শুনে বাড়িথে আসলে খলিলুর ও তার সহযোগীরা ঘরে অগ্নি সংযোগের দ্বায় স্বীকার করে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা না দেওয়ায় মোস্তফা গত বুধবার বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে খলিলুর রহমান সহ অগ্নি সংযোগের সাথে জড়িত থাকায় ১৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।
এঘটনায় খলিলুর রহমান জানায়, বাড়ির মালিক চট্টগ্রাম থাকায় তাকে ওই ঘরে ব্যবহার করতে দিয়ে যায়। চেয়ারম্যানের সাথে জমি জমা নিয়ে বিরোধ থাকায় সে তার দলবল নিয়ে আমার ব্যবহৃত বসত ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। এবং আমার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে অদ্যবধি ফিরে পাইনি। এছারাও চেয়ারম্যান সাহেব ঘরের প্রকৃত মালিককে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য করেছে।
ঘরের মালিক মোস্তফা জানায়, তাদের মধ্যে শত্রুতার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য খলিলুর আমার ঘরে যেখানে সে থাকতো সেটাতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দিয়ে ও তার স্ত্রীকে অন্যত্র সরিয়ে রেখে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও অগ্নিসংযোগ করে বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। খলিলুর তার ঘর সম্পূর্ন পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসে নগদ অর্থ দেওয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় তিনি ঘটনার সাথে জড়িত ১৪ জনের নামে বরগুনা কোর্টে মামলা দায়ের করে।

ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, বহুদিন ধরে খলিলুরদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরাধ চলছে এটা সত্যি কিন্তু এজন্য চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কারো ঘরে অগ্নি সংযোগ সহ কোন নারীকে অপহরন করতে পারি এটা আমার নিজেরও বিশ্বাস হয়না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন