সোম. জানু ২০, ২০২০

আজকের মঠবাড়িয়া

সত্য প্রচারে সোচ্চার

মঠবাড়িয়ায় রাস্তা কেটে দুই পরিবারের চলাচলে বাঁধা !

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি  >>

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষরা রাস্তা কেটে দুটি পরিবারের চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভূক্তভোগি দুই কৃষক পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা প্রতিপক্ষরা কেটে পাশ্ববর্তী খালের সাথে মিশিয়ে দেয়। এতে দুটি পরিবারের লোকজন এক সপ্তাহ ধরে চলচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

ভুক্তভোগি ওই পরিবার দুটি স্থানীয় থানা পুলিশে অভিযোগ করলেও পরিবার দুটি কোন প্রতিকার পায়নি। রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পরেছেন ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা ও শিশু শিক্ষার্থীরা। কেটে ফেলা রাস্তার নালায় হাটু সমান জল ও কচুরিপানা মাড়িয়ে পরিবার দুটি চলচল করছে।
গত সোমবার সকালে উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বড় শৌলা গ্রামের কৃষক আবদুল লতীফ ফকির ও তার ভাই হেমায়েত ফকিরের বাড়িতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী দুই সহোদর শাহ আলম ও হালিম ফকির প্রকাশ্যে কেটে পার্শ্ববর্তী ডোবার সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে গত ৭দিন ধরে সংশ্লিষট দুই পরিবারের সদস্যদের চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বড় শৌলা গ্রামের মৃত. হযরত আলী ফকিরের পুত্র কৃষক আবদুল লতীফ ও বড় ভাই হেয়ামেত ফকির গত ২০০২ সালে স্থানীয় সাবেক সেনা সদস্য আবদুস সত্তার ও শাহআলম ফকিরের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই বছরই জমিতে রাস্তা ও আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে দুই ভাই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ হালিম ও তার ভাই ফজলুল হক একই দাগ খতিয়ানের জনৈক বাদলের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। এরপর রাস্তার জমির মালিকানা দাবি করে গত ২৪ এপ্রিল সোমবার সকালে লতীফ ও হেমায়েতের অনুপস্থিতে প্রতিপক্ষ হালিম ও শাহআলম ফকির ও তার দলবল নিয়ে চলাচলের রাস্তা কেটে ডোবার সাথে মিশিয়ে দেয়। এসময় তারা কিছু ফলদ গাছ কেটে ফেলে।

ভূক্তভোগি কৃষক আব্দুল লতীফের স্ত্রী পাঁচ সন্তানের জননী তাছলিমা বেগম (৪০) জানান, গত ১৫ বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তা কেটে নালার সাথে মিশিয়ে দেয়া এবং পুনরায় হুমকিতে আমরা আতংকে রয়েছি।
ভুক্তভোগি কৃষক হেমায়েত অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যস্থতার নামে রহস্যজনক ভাবে কালক্ষেপন করায় অবরুদ্ধ থেকে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। ওই পরিবারের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া (১২), ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আহাদ (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র তামিম (৮) জানান, রাস্তা না থাকার কারণে তারা গত সাত দিন ধরে স্কুলে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ শাহ আলম ওই জমির মালিকানা দাবি করে রাস্তা কাটার কথা স্বীকার করেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে.এম তারিকুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দুই পক্ষ সমঝোতায় না বসায় ফয়সালা করা সম্ভব হয়নি। পুনরায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com