দেবদাস মজুমদার  >>

মামলায় অভিযুক্ত আসামির নামের সাথে মিল থাকায় পুলিশ নিরাপরাধ ব্যক্তিকে আসামী ভেবে গ্রেফতার করেছে। ফলে অভিযুক্ত আসামী নয় কারাগারে যেতে হয়েছে কাওসার উকিল নামে এক চা বিক্রেতাকে।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের চা বিক্রেতা কাওসার বিনা অপরাধে গত নয়দিন ধরে হাজত বাস করছেন। চা বিক্রেতা কাওসার উকিল উপজেলার ২নম্বর নদমুলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেম উকিলের ছেলে। সে চরখালী ফেরীঘাটে চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, খুলনায় দায়ের করা একটি মামলায় অভিযুক্ত এক আসামীর সাথে চা বিক্রেতা কাওসারের নামের মিল থাকায় গত ২৩ মার্চ ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক সুজন চক্রবর্তী ভুল করে প্রকৃত আসামীকে গ্রেফতার না করে চা বিক্রেতা কাওসারকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন । পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় । খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার নবীনগর গজালমারী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে শিমু আক্তার। শিমু আক্তার ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারী খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতে তার স্বামী মিঠু উকিল, শ্বশুর কাওছার উকিল ,শাশুড়ি খুশী বেগম, এবং ননদ রাজিয়া বেগমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ৪৬৭/১৬। আসামীদের স্থায়ী ঠিকানা ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী গ্রামে ।

খুলনা জজ আদালতের আইনজীবী আব্দুল মজিদ জানান, ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পারিবারিক ভাবে শিমু আক্তার ও মিঠু উকিলের বিয়ে হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। শিমু আক্তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে খুলনা আদালতে মামলা দায়ের করেন। আসামীরা আদালতে হাজির না হলে আদালত বাদীর শ্বশুর চরখালী গ্রামের বাসিন্দা কাওসার উকিলের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। পুৃলিশ সেঠিক যাচাই বাছাই না করেই নামের মিল থাকায় পার্শ্ববর্তী হেতালিয়া গ্রামের বাসিন্দা চা বিক্রেতা কাওসার উকিলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ আরও বলেন বিনা অপরাধে জেল হাজতে থাকা কাওসার উকিলের জামিনের জন্য ২৯ ও ৩০তারিখ জািমের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের কার্যক্রম না চলায় কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

কাওসার উকিলের ছোট ভাই জাকারিয়া উকিল বলেন, আমরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই । কপালের দোষে আমার নিরাপরাধ ভাই বিনা অপরাধে জেল খাটছে। ভাইয়ের জমিজমা নাই। চা বিক্রি কইরা হের পাঁচ সদস্যের পরিবার চলে। এনজিও ব্র্যাক দিয়া ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়া ভাই আমার ফেরীঘাটে চা বেচে সংসার চালায় । অহন এনজিওর কিস্তি আর পরিবারের খাওয়া পড়া চলেনা। তিনি আরও বলেন, ভাইরে গ্রেফতার কইরা থানায় নেয়ার পর আমি কইছি ভাই নির্দোষ কিন্তু পুলিশ আমার কথায় কোন সায় দেয় নাই। আমার ভাইরে অহন মুক্তি দ্যান।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক ( এস.আই) সুজন চক্রবর্তী ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে  বলেন, অভিযুক্ত আসামীর পিতার নাম হাকিম উকিল । তবে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার পিতার নাম হাসেম উকিল । গ্রেফতারের সময় সে পিতার নাম ভুল হয়েছে এমন কথা বলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বিষয়টি ভুল হওয়ায় নিরাপরাধ ব্যক্তিকে মুক্ত করতে আমি নিজে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এ ভুল অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে এজন্য আমি দু:খিত।

ভান্ডারিয়া থানা অফিসার ইন চার্জ কামরুজ্জান তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আসামীর নামে মিল থাকায় উপ-পরিদর্শক সুচন চক্রবর্তীর ভুলে কারনে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে আদালতে সঠিক কাগজ পত্র দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তেই সে দ্রুত মুক্তি পাবে ।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন