পিরোজপুর প্রতিনিধি  >
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনকারী প্রধান আসামি সন্ত্রাসী মনির ফেরদৌস ওরফে নয়ন গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেফতার করা হয় নয়ন গাজীকে । স্বরুপকাঠীতে এনে তাকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিধান চন্দ্র সরকার স্বরূপকাঠি উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শিক্ষক নির্যাতন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বরুপকাঠী থানার উপ-পরিদর্শক শাহাবউদ্দিন জানান, পিরোজপুর পুলিশ সুপার মো. ওয়ালিদ হোসেনের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ঢাকার সাভার থানার ফুলবাড়ীর সুভাপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে স্বরুপকাঠীতে আনা হয়।
গত ৩ ফেব্রুয়ারী মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিধান চন্দ্র সরকারকে একটি ঘরে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায় সন্ত্রাসী নয়ন গাজী ও তার সহযোগীরা। নির্যাতন শেষে বিকাশ এর মাধ্যমে তার কাছ পরিবারের কাছথেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়। এরপর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া হালদারের সহায়তায় তিনি পালিয়ে বরিশাল গিয়ে চিকিৎসা নেন। নির্যাতিত শিক্ষকের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়।
স্বরুপকাঠী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি স্বপন কুমার জানান, বিধান চন্দ্র সরকার গত বছর ২৪ নভেম্বর মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিপিএড শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে একাই থাকতেন। এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পকের্র অজুহাত তুলে সন্ত্রাসী নয়ন গাজী ও তার সহযোগীরা শিক্ষক বিধান চন্দ্রকে ধরে বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানের সামনে মারধর করে বিবস্ত্র করে ফেলে রাখে। পরে সন্ত্রাসীরা ওই শিক্ষককে পাশের হরি মন্দিরে নিয়ে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে নয়ন গাজীকে প্রধান আসামি করে স্বরুপকাঠী থানার উপ-পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
স্বরুপকাঠী থানার উপ-পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র জানান, নয়ন গাজীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

SIMILAR ARTICLES

মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন